শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

সোনাডাঙ্গার জঙ্গলে

আহমদ মতিউর রহমান

বৃষ্টি বাদল থেমে আছে। ঢিলও আর পড়ছে না। আজিমসহ ওরা তিন জন এখন জেগে। স্বরাজের চোখ লাল কি না খেয়াল করার উপায় নেই। ঘণ্টা দেড়েক ব্যাগে হেলান দিয়ে থাকলেও সে ঘুমাতে পেরেছে বলে মনে হচ্ছে না। বড় লোক বাবার সন্তান স্বরাজ। কোন দিন এরকম হেচোর প্যাচোর অবস্থায় সে পড়েনি এটা আজিম ঠিক বুঝতে পারছে। তাকে বলল আজিম-

: স্বরাজ, মনে হয় তোর রেস্ট হয়নি। আবার হেলান দিয়ে চেষ্টা কর ভাই। আমি তো আছিই জেগে। একটা হাই তুলে বলল স্বরাজ- 

: না রে, ঘুমিয়ে কত কিছু মিস করলাম। আর ঘুমাবো না। আসলে ঘুম হয়নি সেও জানে। তবু বাহাদুরি ফলানোর জন্য বলা।  ছয়টি চোখ জেগে আছে। ভোরের মনে হয় খুব বাকি নেই তখন। ভূতের উপদ্রব আর অলৌকিক কিছু দেখার আশা সবার। হঠাৎ একটি লরি এসে থামলো ওদের এই জংলা মতো স্থানটার অদূরে। খুব হালকা গলায় কথা হলো দুই পক্ষের দুজনের মধ্যে। এটা বোঝা গেল। আজিম প্রথমে দেখতে পেল বিষয়টা। হিস হিস শব্দে বাকি দুজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।  লরিটা বেশ বড়। দূর থেকে বুঝাই যাচ্ছে। কিন্তু তাতে কিছু আছে কিনা ঠাহর করা যাচ্ছে না। একটু পর এক জনের পর একজন মাথায় করে কী যেন নিয়ে দূরে সরে যাচ্ছিল। লরির অপর পাশে যাচ্ছিল। আবার এসে আবার যাচ্ছে। আজিমের বুঝতে বাকি নেই আসলে কী হচ্ছে। লরিটার মালামাল পেছনে রাখা আরেকটি যানে নেয়া হচ্ছে এটা বুঝা যাচ্ছে। 

কিছুক্ষণ পর লরি লোকজন আর অদৃশ্য যান সবই উধাও। তার মানে ওরা কেটে পড়েছে। 

: চোরাচালান? কী নিচ্ছে? কোথায় নিচ্ছে? ফিস ফিস করে বলে স্বরাজ।  

: চুপ চুপ। দেখে যা কথা বলিসনে ভাই। আজিম চুপ থাকার ইঙ্গিত দিয়ে বলে। শিপন বলল -

: এধারকা মাল ওধার নিচ্ছে। চোরাচালান তো বটেই। কী হতে পারে ভাবছি। 

: অতো ভেবে কাজ নেই শিপন। একটু চুপ থাক না রে। 

কিছুক্ষণ কেউ কিছু বলে না। 

সিলেটের আম্বরখানা এলাকার একটি বাড়ি। এলাকাটা শহরের বেশ দামি এলাকা। সিলেটের বিখ্যাত হযরত শাহজালালের মাজার থেকে বেশ কাছে। ভোর হবার খুব বাকি নেই। এই বাড়ির কর্তা একজন সাবেক সরকারি অফিসার বারিক সাহেব। বারিক চৌধুরি। একজন নিপাট ভদ্রলোক। সরকারি অফিসার ছিলেন। তবে সাধারণ জীবন কেটেছে তার। এখন নিজ শহর সিলেটে বাড়ি করে সেখানেই থাকেন। সাধারণত ভোরে উঠে তিনি নামাজ সেরে বাইরে ঘুরতে যান। মর্নিং ওয়াক ঠিক নয়, আধাঘন্টা হাঁটাহাঁটি করেন। তার পর ফিরে এসে নাস্তা করেন। পেপার পড়েন। কিন্তু আজ সকাল বেলা তার মনটা খচখচ করে উঠতে থাকে। ভাগ্নে শিপন ও তার বন্ধুরা আসবে বলেছিল। আর রাত একটার দিকে তাদের পৌঁছে যাবার কথা ছিল। হ্যাঁ এমনটাই বলেছিল শিপন তার মামীকে। মামী বলেছে মামা বারিক চৌধুরিকে।  মি: চৌধুরি মনে করতে পারলেন না মামী তাকে এ ব্যাপারে কিছু বলেছে কি না। তার মানে বলেননি। তার মানে তারা আসেনি। তার মানে তারা এখন কোথায়? মনে মনে ভাবতে থাকেন চৌধুরি সাহেব। মনটা খচখচ করছে। তবে বেশি চিন্তা করতে রাজি নন তিনি। কারণ এমনও হতে পারে ওরা হয়তো রওনা দেয়ইনি। আসেওনি। তিনি ভাবতে থাকেন এমনটা হলেই ভালো।  (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ